Posted by: m@q on: ফেব্রুয়ারি 10, 2010
ইদানিং আমি লিনাক্স; আরো সূক্ষ্ম করে বললে উবুন্টু নিয়ে বেশ মাতামাতি করছি। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করি উবুন্টু প্রচার করতে। এই প্রচার করতে গিয়েই টের পেলাম লোকজনের মধ্যে কিছু জিজ্ঞাসা বারবার ঘুরে ফিরে আসে- কেন আমি উবুন্টুর প্রচার করি? উবুন্টু কি আমাকে এজন্য পয়সা দেয়? যদি পয়সা না দেয় তাহলে এভাবে প্রচার করে আমার কি লাভ? মজার ব্যাপার হচ্ছে এই প্রশ্নগুলো কিন্তু কোন লিনাক্স ব্যবহারকারীর মনে আসেনা। যারা উইন্ডোজ বা মাইক্রসফটের পণ্য ব্যবহার করে তাদের মনেই প্রশ্নটা আসে। এইবার নিশ্চয়ই ধাক্কা খেলেন! “যারা উইন্ডোজ বা মাইক্রোসফটের পণ্য ব্যবহার করে” – এর মানে কি? সবাইতো উইন্ডোজ ব্যবহার করে! নাহ, সবাই উইন্ডোজ ব্যবহার করেনা; এই যেমন আমি! আমি উইন্ডোজ ব্যবহার করিনা, বাসার ডেস্কটপেও না, নিজের ল্যাপটপেও না। আর আমার মত এরকম আরো অনেকেই আছেন। আর এ সংখ্যাটা কিন্তু দিন দিন বেড়েই চলেছে।
Posted by: m@q on: ফেব্রুয়ারি 9, 2010
শেষ পোস্টের পর অনেককিছুই ঘটে গেছে আবার কিছুই ঘটেনাই! আমার জন্য যেগুলো অনেক কিছু অন্যদের জন্য হয়তো সেগুলো কিছুইনা! যাই হোক, সেসব জিনিসকে একসাথে ভরার চেষ্টা চালাচ্ছি এই পোস্টে। কতটুকু সম্ভব হবে জানিনা।
ইদুর
দেশে থাকতে ইদুর জিনিসটার সাথে তেমন একটা পরিচয় ছিলনা। মাঝে মাঝে বাসায় উৎপাত দেখা দিলে র্যাটম বা ঐ টাইপের কিছু একটা কিনে রাতে বাসায় ছড়িয়ে দিলেই কাহিনী শেষ হয়ে যেত, সকালে দেখা যেত কয়েকটা ইদুর বা চিকা প্রজাতির প্রাণী মরে পড়ে আছে। কিন্তু সুদূর হল্যান্ডে এসেও যে ইদুর বাবাজির খেল দেখতে হবে সেটা চিন্তা করিনাই। কাহিনীটা গত সামারের পরের ঘটনা, সেসময় কিছুদিন খালার বাসায় ছিলাম। তো বাসায় ফ্লোরে পা ছড়িয়ে বসে ল্যাপিতে কাজ করছি, এমন সময় মনে হল জীবন্ত কিছু একটা আমার পায়ের উপর দিয়ে চলে গেল। কাহিনী কি! একটু এদিক সেদিক তাকালাম কিছু চোখে পড়লনা। মনের ভুল নাকি! আবার ল্যাপির দিকে তাকাতে গিয়ে চোখ পড়ল দরজার কোনায়, দেখি একজোড়া কুঁতকুতে চোখ আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কোন ইঁদুরের আমার দিকে অপলকভাবে তাকিয়ে থাকার ঘটনা এই প্রথম!
যাই হোক ইঁদুর থাকা মানেই হল একে খতম করতে হবে। পরদিন থেকেই উঠে পড়ে লাগা হল ইঁদুরের পেছনে। আসমিতা রিপোর্ট করল নীচে বসার ঘরে দেখা গেছে বাবাজীকে। সাথে সাথে ড্রইংরুমের সব দরজা জানালা আটকে ঝাপিয়ে পড়া হল। হঠাৎ চোখ গেল এরিকের দিকে। ও দেখি একহাতে পিনাট বাটারের বৈয়াম আরেক হাতে চমচে পিনাট বাটার নিয়ে পজিশন নিচ্ছে। কাহিনী কি? পরে জানা গেল গুগুল বাবা নাকি ফর্মায়েছেন যে পিনাট বাটার আর চিজ ইঁদুর প্রজাতির অতি প্রিয় খাদ্য। তাই সেই প্রিয় খাদ্য নিয়ে লোভ দেখিয়ে ইঁদুর মারার ফন্দি করেছে এরিক বেচারা। ঐ দিন অবশ্য ইঁদুর নিধন প্রকল্প সফল হয় নাই, শুধু ঐ দিনই না এর পর যতবারই ইঁদুর মারতে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে কোনবারই আর সেটা সফল হয়নি। মাসখানেক পর মনের দুঃখে ইঁদুরটা বাসা ছেড়েই চলে গেল! এরপর থেকে আমরা আর তার লেজের টিকিটিও দেখিনি।
Read the rest of this entry »
Posted by: m@q on: সেপ্টেম্বর 4, 2009
কোমলমতি এই নাদানের মরা কান্নায় বোধকরি অবশেষে অভ্র জনকের ধ্যান ভাঙ্গিল। তিনি অভ্রকে লিনাক্সের পরিসরে আনিবার জন্য উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়াছিলেন। তারই ফলস্বরূপ বারোখান ঘন্টক পূর্বে সকল বাধা অতিক্রম করিয়া লিনাক্সের মহিমান্বিত জগতে অভ্র প্রবেশ করিল। লিনাক্স ব্যবহারকারিগনদের নিকট এই সংবাদ যেন ভাদ্র মাসের সুপরিচিত আউলাটক্কা গরমের মধ্যে ভারিবর্ষনের ন্যায় সুসংবাদের জলধারা স্বরূপ বর্ষিত হইয়াছে। লিনাক্স অনুরাগীগন অদ্য হইতে অভ্রের জাদুকর স্পর্শ লিনাক্সে চাখিয়া দেখিবার সুযোগ পাইবেন।
আপাতত ইহা কেবলমাত্র উবুন্টু ৯.০৪ এবং লিনাক্স মিন্ট ৭ এ পরীক্ষা করা হইলেও অতি শীঘ্রই ইহা অন্যান্য লিনাক্সের জন্য মুক্ত করা হইবে।
পরিশেষে যাহারা ইহা চাখিয়া দেখিতে চান তাহারা দয়া করিয়া এইখানে একটিবার ভ্রমন করিয়া আসুন।

লিনাক্স মিন্টে হড়বড় করিয়া চলিতেছে অভ্র!
Posted by: m@q on: অগাষ্ট 1, 2009
বাংলাদেশে এসে অনেকদিন পর কুকুর-বিড়াক টাইপের মুষলধারে বৃষ্টি দেখলাম। কথা নাই বার্তা নাই রাত বারটার দিকে তুমুল বৃষ্টি শুরু হল। ভ্যাপসা গরমের পর বৃষ্টি বেশ ভালোই লাগলো। রাতে আরামে ঘুমানো যাবে চিন্তা করেই বিছানায় চলে গেলাম! তাছাড়া আবার পরদিন আমার পুরনো কর্মক্ষেত্রে প্রাক্তন কলিগদের সাথে দেখা করার কথা। তাই এমন বৃষ্টির রাতে ঝরঝরে ঘুম হওয়াটা বেশ জরুরি ব্যাপার।
পরদিন সকালে সকাল আটটার দিকে ঘুম ভাঙলো। বাইরে তখনো বৃষ্টি হচ্ছে! একটানা বৃষ্টি হচ্ছে নাকি মাঝে বন্ধ হয়ে আবার শুরুর হয়েছে বোঝার কোন উপায় নাই। বন্ধ হয়ে থাকবে হয়তো, কারন টানা বৃষ্টি বাংলা দেশে দেখিনা বহুদিন। ছোটবেলায় এমন বৃষ্টি নামতো যে স্কুল ছুটি করে দেয়া হত, ঐদিনকে বলা হত রেইনি ডে। সেসময় ঝুম বৃষ্টি হলেই দোয়া পড়তাম যেন স্কুল বন্ধ ঘোষনা করে! সেরকম বৃষ্টি দেখিনা অনেক বছর। এইসব হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে দেখি আম্মু চলে এসেছে। প্রতিদিন সকালে ছোট বোনকে কলেজে দিয়ে আম্মু বাসায় চলে আসে। তবে আজকে ব্যতিক্রম, সঙ্গে দেখি বোনও চলে এসেছে? কাহিনী কি! পরে শুনি আজকে ওদের স্কুলে রেইনি ডে!
Posted by: m@q on: জুন 5, 2009
বহুদিন ধরে লেখা হয়না। অনেকগুলো কারনের মধ্যে প্রধান কারন হচ্ছে ফাঁকিবাজী। ইদানিং সবকিছুতেই ফাঁকিবাজী করতে ইচ্ছে করে। আমার ইংলিশ ব্লগটা আপডেট করিনা, ফেসবুকে বন্ধুদের ওয়ালে লিখিনা, একেরপর এক এসাইনমেন্ট বাকী পড়ছে, পরীক্ষার পড়া জমে উঠেছে – সবকিছুতেই ফাঁকি দিচ্ছি। মাঝখানে ওয়াটারলু, বেলজিয়াম আর ট্যাসেলে গিয়েছিলাম, ফাঁকিবাজীর ঠ্যালায় পড়ে সেইগুলা কিছুই লেখা হয়নাই। গত সপ্তাহে হঠাৎ করে জার্মানি গেলাম। এই জায়গাতেও ফাঁকি মারতে ইচ্ছা করছিল, তারপর কী যেন মনে করে লিখতে ইচ্ছা করল। তাই ল্যাপিটাকে কোলের উপর নিয়ে বসে লিখতে শুরু করলাম।
প্রথমেই জানতে হবে জার্মানি যাবার কেন ঠ্যাকা পড়লো। মামীর এক আপা সম্পর্কীয় আত্মীয় জার্মানীতে তার ছেলের বাসায় এসেছে। সেই মহিলার হঠাৎ করেই মামীকে দেখবার খায়েশ হলো (সেই সাথে হল্যান্ড আসার খায়েশও ছিল), সেই খায়েশ পূরণ করতে জার্মানী যেতে হবে। প্ল্যান মোতাবেক, মামীরা প্রথমে জার্মানি যাবে তারপর ছেলেসহ আপাকে হল্যান্ডে আনা হবে- পুরোটাই হবে একটা রোডট্রিপ! যেহেতু রোডট্রিপ সেহেতু পুরাপুরি নেভিগেটরের উপর নির্ভর করতে হবে, যেহেতু নেভিগেটরের উপর নির্ভর করতে হবে সেহেতু মামীর চেয়ে আমি বেশি রিলায়েবল (মামী আবার টেকনোসাইডে কিঞ্চিত কচি-কাঁচা), যেহেতু আমি বেশি রিলায়েবল সেহেতু মামা আমাকে নিবেই নিবে, যেহেতু আমাকে নিবেই নিবে সেহেতু আমার না গিয়ে কোন গতি নাই, যেহেতু আমার না গিয়ে কোন গতি নাই সেহেতু যাবার আগের দিন রাতের বেলা ঠিকানা নিয়ে নেভিগেটর সেট করতে বসলাম। ঠিকানা বলছে জার্মানির উল্ম শহরে যেতে হবে, নেভিগেটরে ঠিকানা ঢুকানোর পর দেখি ডিস্ট্যান্স দেখাচ্ছে ৭১৬ কিমি! বিশাল ড্রাইভিং ডিস্ট্যান্স! প্রায় তিনবার ঢাকা-চিটাগাং আসা যাওয়া করা যাবে। অবশ্য সেই তুলনায় সময় কম লাগবে, একটানা যেতে পারলে নেভিগেটরের হিসাব অনুযায়ী ছয় ঘন্টায় যাওয়া সম্ভব। ইউরোপীয়ান রাস্তা বলে কথা!
কিচিরমিচির